← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

মানসিক চাপ বাড়লে চুলকানিও বাড়ে

কয়েকদিন ধরে একটা প্যাটার্ন খেয়াল করছি।
অফিসের মেসেজ আসার সাথে সাথেই হাতের চুলকানি হঠাৎ বেড়ে যায়।

সারাদিন বাসা থেকে কাজ করি, একটানা চেয়ারে বসে থাকি।
হাত দুটো প্রায় সবসময় কীবোর্ডের ওপরে।
তার মধ্যেই হঠাৎ আঙুলের ফাঁকে, কব্জির কাছটায় চুলকানি শুরু হয়ে যায়।
প্রথমে ভাবতাম শুকনো আবহাওয়ার জন্য।
এখন বুঝি, মেসেজ এলেই শরীর আগে টের পায়, মন পরে বোঝে।

গতকাল একটা কল চলাকালীন সহকর্মী হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, “তোমার হাতে কী হয়েছে, স্ক্র্যাচ কেন।”
কী উত্তর দেব বুঝতে পারিনি।
হাতা টেনে ঢেকে রাখলাম, কথা ঘুরিয়ে দিলাম।
তারপর থেকে ভাবছি, অফিসের মানুষদের সাথে ঠিক কতটা দূরত্ব রাখা উচিত।
সব লুকানোও কষ্টের, সব বলে দেওয়াও ভয়ের।

রাতে হাত দুটোকে একটু বিশ্রাম দিতে বুনন ধরি।
সুতো হাতে নিলে মন একটু স্থির হয়, চুলকানোর দিকেও মনোযোগ কম যায়।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবার সেই একই জায়গায় হাত চলে যায়, বুনন ফেলে রেখে।

এই কয়দিন একটা খাতায় টুকে রাখার চেষ্টা করছি, কখন কখন চুলকানি বাড়ে, কোন মেসেজের পর, কার সাথে কথার পর।
এখনো প্যাটার্ন পুরো স্পষ্ট না, তবে অফিসের নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠলেই শরীর টানটান হয়ে যায়, এটুকু বুঝতে পারছি।
মা প্রায়ই বলেন, “মনটাকে একটু হালকা কর,” কিন্তু কীভাবে করব, সেটাই তো বুঝে উঠতে পারছি না।

আজ লিখে রাখলাম, পরে নিজেই পড়ে দেখব, তখন কেমন লাগে।

সবাই কি কখনো খেয়াল করেছেন, মানসিক চাপ আর চুলকানির মধ্যে এমন সরাসরি যোগাযোগ।

চাপ বাড়লেই হাত আগে টের পায়, মন পরে বোঝে – এটাই আপাতত আমার অভিজ্ঞতা।

মন্তব্য 13

  • হাসিখুশি09.02

    আমার কিন্তু একটু অন্যরকম মনে হয়েছে। মেসেজ আসলেই চুলকানি বাড়ে এটা মানছি, তবে আমার ক্ষেত্রে আসল কারণ স্ট্রেস না, হাতের ভঙ্গি মনে হয়। টাইপের সময় কব্জি একই ভাবে বেঁকে থাকে, তখনই চুলকানি শুরু হয়। মেসেজ আসলে হাত হঠাৎ দ্রুত নড়ে, সেই নড়াচড়াটাই ট্রিগার, মনের চাপ না। তিন সপ্তাহ খাতায় লিখে দেখেছি, মিটিং কলের চেয়ে টানা টাইপিং এর সময়েই বেশি হয়েছে। প্রতি ৪৫ মিনিটে হাত একটু নাড়ালে আমার কমেছে। দাদা

  • → হাসিখুশিচুপচাপ মেয়েলেখক09.02

    দাদা, আপনার কথাটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। আমিও সারাদিন কীবোর্ডে থাকি, কব্জি একইভাবে বেঁকে থাকে এটা সত্যিই মনে হয়। তবে আমার ক্ষেত্রে দুটোই একসাথে কাজ করে বলে মনে হয়। মেসেজ দেখলেই হাত টানটান হয়ে যায়, তখন টাইপের ভঙ্গিও খারাপ হয়ে যায়। রাতে বোনার সময় হাত অন্যভাবে থাকে, তখন চুলকানি কম লাগে।

  • → হাসিখুশিচুপচাপ মেয়েলেখক09.02

    আপনার কথাটা ফেলে দেওয়ার মতো না। আমিও সারাদিন টাইপ করি, কব্জি একইভাবে বেঁকে থাকে। বোনা ধরার পর খেয়াল করলাম হাত অন্যভাবে নড়ে, তখন চুলকানি একটু কম লাগে। হয়তো দুটোই একসাথে কাজ করে, ভঙ্গিও, চাপও।

  • → হাসিখুশিচুপচাপ মেয়েলেখক09.02

    দাদা, ভঙ্গির কথাটা ঠিক মনে হয়। সারাদিন কীবোর্ডে হাত থাকে, কব্জি একই ভাবে বেঁকে থাকলে হাতে টান লাগে, তখন চুলকানিও বাড়ে। রাতে হাত বিশ্রাম দিতে বুনন ধরি, ভঙ্গি বদলালে একটু শান্ত হয় সেটা বুঝি। তবে আমার মনে হয় শুধু ভঙ্গি না, মেসেজ আসলে হাতও হঠাৎ শক্ত হয়ে যায়। দুটো মিলেই বাড়িয়ে দেয় বলে মনে হচ্ছে।

  • মেঘবালিকা09.02

    দুটো কারণই হয়তো একসাথে কাজ করে, চাপ বাড়লে হাতও শক্ত হয়ে যায়

  • হাসিখুশি09.02

    মেসেজ এলেই হাত ঘামতে শুরু করে, এটা আমারও হয়। সহকর্মী জিজ্ঞেস করলে আমিও ঠিক আপনার মতো কথা ঘুরিয়ে দিই, সত্যিটা বলার সাহস হয় না। হাতা টেনে ঢাকাটা এত চেনা লাগল পড়ে। রাতে কিছু একটা হাতে নিয়ে বসে থাকলে মনটা একটু শান্ত হয়, সেটা বুজি। আমারও তাই হয় মাঝে মাঝে। অফিসের মানুষদের কতটুকু বলব, কতটুকু লুকাবো – এই টানাপোড়েনটা আমার মধ্যেও আছে।

  • হাসিখুশি09.03

    দুটো কারণই হয়তো একসাথে কাজ করে, স্ট্রেসও ভঙ্গিও। আমি নিজে তিন সপ্তাহ ধরে খেয়াল করছি, মেসেজ আসলে হাতের অবস্থান বদলাই না ঠিকই কিন্তু চাপটা বেড়ে যায়, তখন হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরি কীবোর্ড। মন যখন টানটান থাকে ভঙ্গিও বদলে যায়, তাই আলাদা করে বলা কঠিন। দুজনেরই পর্যবেক্ষণ ঠিক মনে হচ্ছে, শুধু একটা আরেকটাকে টেনে আনছে হয়তো।

  • হাসিখুশি09.03

    অফিসের মেসেজ দেখলেই কেউ জিজ্ঞেস করলে আমিও হাতা টেনে ঢেকে ফেলি, কী বলব বুঝতে পারি না। সব বলাও ভয়ের, সব লুকানোও কষ্টের কথাটা পড়ে একদম নিজের অবস্থা মনে হল। রাতে হাত ব্যস্ত রাখলে মনটা একটু শান্ত হয় সেটাও ঠিক বুঝি।

  • ক্লান্ত পাখি09.03

    কতটা বলব, কতটা লুকাবো, এই দ্বিধাটা আমারও আছে।

  • হাসিখুশি09.05

    দুটোই ঠিক হতে পারে মনে হয়, একটা আরেকটার বিপরীত না। কোনো কোনো দিন মনে হয় শুধু স্ট্রেস, আবার কোনো দিন মনে হয় শুধু ভঙ্গি, হয়তো দিনভেদে দুটোর ভারসাম্য বদলায়। মেসেজ আসলে মন টানটান হয়ে যায়, হাতও ঠিক তখনই সেই বাঁকা ভঙ্গিতে কীবোর্ড চেপে ধরে, তাই দুটো একসাথে ঘটে বলে আলাদা করা কঠিন। আমি ২ মাস ধরে রাতে খাতায় লিখে রাখছি কখন চুলকানি বাড়ে, দেখলাম ৯টার পর কল থাকলে সবচেয়ে বেশি বাড়ে, সারাদিনে হাত ৮

  • চুপচাপ মেয়েলেখক09.06

    দিনভেদে দুটোই সত্যি হতে পারে, দাদা।

  • হাসিখুশি09.12

    বুননের কথা বলার জন্য ধন্যবাদ দিদি, আজ 9টায় আমিও একবার চেষ্টা করব

  • চুপচাপ মেয়েলেখক09.21

    রোজ রাতে একটু বুনি, হাত একটু শান্ত হয়। আপনার জন্যও কাজ করলে ভালো লাগবে

সব লেখার তালিকা দেখুন →