কয়েকদিন ধরে একটা প্যাটার্ন খেয়াল করছি।
অফিসের মেসেজ আসার সাথে সাথেই হাতের চুলকানি হঠাৎ বেড়ে যায়।
সারাদিন বাসা থেকে কাজ করি, একটানা চেয়ারে বসে থাকি।
হাত দুটো প্রায় সবসময় কীবোর্ডের ওপরে।
তার মধ্যেই হঠাৎ আঙুলের ফাঁকে, কব্জির কাছটায় চুলকানি শুরু হয়ে যায়।
প্রথমে ভাবতাম শুকনো আবহাওয়ার জন্য।
এখন বুঝি, মেসেজ এলেই শরীর আগে টের পায়, মন পরে বোঝে।
গতকাল একটা কল চলাকালীন সহকর্মী হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, “তোমার হাতে কী হয়েছে, স্ক্র্যাচ কেন।”
কী উত্তর দেব বুঝতে পারিনি।
হাতা টেনে ঢেকে রাখলাম, কথা ঘুরিয়ে দিলাম।
তারপর থেকে ভাবছি, অফিসের মানুষদের সাথে ঠিক কতটা দূরত্ব রাখা উচিত।
সব লুকানোও কষ্টের, সব বলে দেওয়াও ভয়ের।
রাতে হাত দুটোকে একটু বিশ্রাম দিতে বুনন ধরি।
সুতো হাতে নিলে মন একটু স্থির হয়, চুলকানোর দিকেও মনোযোগ কম যায়।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবার সেই একই জায়গায় হাত চলে যায়, বুনন ফেলে রেখে।
এই কয়দিন একটা খাতায় টুকে রাখার চেষ্টা করছি, কখন কখন চুলকানি বাড়ে, কোন মেসেজের পর, কার সাথে কথার পর।
এখনো প্যাটার্ন পুরো স্পষ্ট না, তবে অফিসের নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠলেই শরীর টানটান হয়ে যায়, এটুকু বুঝতে পারছি।
মা প্রায়ই বলেন, “মনটাকে একটু হালকা কর,” কিন্তু কীভাবে করব, সেটাই তো বুঝে উঠতে পারছি না।
আজ লিখে রাখলাম, পরে নিজেই পড়ে দেখব, তখন কেমন লাগে।
সবাই কি কখনো খেয়াল করেছেন, মানসিক চাপ আর চুলকানির মধ্যে এমন সরাসরি যোগাযোগ।
চাপ বাড়লেই হাত আগে টের পায়, মন পরে বোঝে – এটাই আপাতত আমার অভিজ্ঞতা।
