গত কয়েকদিন ধরে ঘাড়ের পেছনটা আর দুই হাতের কনুইয়ের কাছটা এমন চুলকাচ্ছে যে রাতে ঘুম প্রায় ভেঙে যাচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম গরম বেড়েছে বলেই এমন হচ্ছে, কিন্তু কদিন খেয়াল করে দেখলাম ব্যাপারটা তেমন সহজ না।
আমি বাড়ি থেকেই কাজ করি, তাই সারাদিন একই চেয়ারে বসে থাকতে হয়। মাসখানেক আগে পুরনো একটা চেয়ার সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটপ্লেস থেকে কিনেছিলাম, কাপড়ের কভারওয়ালা। প্রথম কদিন কিছু মনে হয়নি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ঠিক ওই সময় থেকেই ঘাড়ের চুলকানিটা শুরু হয়েছে। যদিও কেনার পর ভালো করে ধুয়ে নিয়েছিলাম, তবুও মনে খচখচ করছে যে পুরনো মালিকের কিছু লেগে থাকতে পারে কিনা।
আরেকটা ব্যাপারও লুকিয়ে রাখলাম না। কিছুদিন পরে আমার একটা পরীক্ষা আছে, বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা সার্টিফিকেশনের জন্য। যত দিন এগিয়ে আসছে, মাথার মধ্যে চাপটাও তত বাড়ছে। আর অদ্ভুতভাবে দেখেছি, যেদিন পড়াশোনা নিয়ে বেশি চিন্তা করি সেদিন রাতেই চুলকানিটা সবচেয়ে বেশি হয়। এটা কাকতালীয় কিনা বুঝতে পারছি না, নাকি সত্যিই একটা যোগসূত্র আছে।
মনটাকে একটু ধরে রাখতে একটা ডায়েরিতে প্রতিদিন লিখে রাখছি, কোন দিন কেমন লাগল, কখন চুলকাল, কী খেলাম। কয়েকদিনের হিসেব মিলিয়ে দেখলাম মোটামুটি এরকম একটা প্যাটার্ন —
– সারাদিন চেয়ারে বসে কাজ করার দিনগুলোতে সন্ধ্যার দিকে চুলকানি বাড়ে
– পরীক্ষার পড়া নিয়ে বেশি ভাবলে রাতে ঘুমই আসে না, চুলকিয়ে চুলকিয়ে আরও খারাপ লাগে
– ছুটির দিনে বাইরে হাঁটতে গেলে তুলনায় ভালো থাকি
একজন বন্ধুকে এই কথা বলেছিলাম, ও বলল, “তুই এত ভাবিস বলেই শরীরটাও রিঅ্যাক্ট করছে।” কথাটা পুরোপুরি ফেলে দিতে পারছি না, তবে চেয়ারটার কথাও মাথা থেকে যাচ্ছে না। রাতে অফিসের ভিডিও কলে হাতের দাগগুলো ঢেকে রাখতে গিয়েও একধরনের অস্বস্তি হয়, আর সেই অস্বস্তি থেকেই মনে হয় চিন্তাটা আরেকটু বেড়ে যায়।
যাঁরা এই কমিউনিটিতে অনেকদিন ধরে আছেন, তাঁদের জিজ্ঞেস করতে চাই — স্ট্রেস থেকে হওয়া চুলকানি আর বাইরের কোনো জিনিসের প্রতি অ্যালার্জি, এই দুটোর মধ্যে তফাত আপনারা কীভাবে বোঝেন? আর সেকেন্ড হ্যান্ড কোনো কাপড় বা আসবাব থেকে কারও কখনও এরকম সমস্যা হয়েছে?
