সারাদিন চেয়ারে বসে কাজ করি, বাড়ি থেকেই সব সারতে হয় বলে হাঁটাচলা প্রায় হয়ই না। কিন্তু আজকাল হাতের চুলকানি এত বেড়েছে যে কাজের মাঝখানেও থামতে হচ্ছে বারবার। বিকেল 4টার দিকে হাতের ভাঁজে ভাঁজে জ্বালা শুরু হয়ে যায়, কম্পিউটারের সামনে বসে টাইপ করতে করতেই হাত চুলকাতে থাকে, তখন কাজটাও ঠিকমতো এগোয় না।
পরীক্ষা আর 2 মাস বাকি, প্রস্তুতি নিতে হবে জানি তবু মন বসছে না কিছুতেই। বইয়ের সামনে বসলেই মাথায় শুধু চুলকানির কথা ঘুরপাক খায়, রাতে পড়তে বসি তো হাত চুলকিয়ে মনোযোগ ভেঙে যায়, আবার হাত সামলাতে গেলে সময় নষ্ট হয়। এই দুটোর মাঝে পড়ে কী করব বুঝতে পারি না।
গত মাসে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট থেকে একটা পুরনো অফিস চেয়ার কিনেছিলাম, কারণ ঘরে বসে এত ঘণ্টা কাজ করতে গিয়ে কোমরে ব্যথা হচ্ছিল। চেয়ারটা আসার পর প্রথম কয়েকদিন ভালোই লাগছিল, কিন্তু তারপর থেকে কেন যেন হাতের চুলকানিটা আরও বেড়ে গেছে। ধুলো থেকে হচ্ছে কিনা কে জানে, নাকি এমনিই খারাপ হচ্ছে, বুঝতেই পারছি না।
আজকের দিনটা মোটামুটি এরকম গেল –
সকাল 9টা থেকে কাজ শুরু করলাম
দুপুরে হাত চুলকানোর জন্য বই বন্ধ করে রাখতে হলো
রাতে আবার 3টায় ঘুম ভেঙে গেল, হাত চুলকাচ্ছিল খুব
ঘুম ভেঙে উঠে বসে অনেকক্ষণ হাতের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এভাবে ভেবে কী লাভ জানি না, তবু ভাবনাগুলো থামে না। মনের ভেতর একটা অস্থিরতা কাজ করে সবসময়, ঠিক বলতে পারব না কীসের জন্য, পরীক্ষার জন্য নাকি শরীরের জন্য।
মা ফোন করে জিজ্ঞেস করেন, “কেমন আছিস, শরীর ভালো তো।” প্রতিবারই বলি ভালো আছি, কিন্তু আসলে ভালো নেই সেটা বলতে পারি না। বলে লাভ কী, চিন্তা বাড়বে শুধু।
লিখে রাখলে হয়তো একটু হালকা লাগবে ভেবে আজ লিখতে বসলাম। ঠিক কী নিয়ে মন খারাপ সেটাও স্পষ্ট না, শুধু ভেতরে ভেতরে একটা ভার বয়ে বেড়াচ্ছি অনেকদিন ধরে। কাজ, পরীক্ষা, চুলকানি, সব মিলিয়ে মাথাটা একেবারে গুলিয়ে যায়।
যাই হোক, শুধু মনটা হালকা করতে লিখলাম, আপনাদের মধ্যে কেউ এরকম চাপ সামলাচ্ছেন কিনা জানি না। আজ এই পর্যন্তই।
