← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

চেয়ারে বসে কাজ, হাঁটুর ভাঁজে চুলকানি বাড়ে

সারাদিন ল্যাপটপের সামনে বসে থাকি, রিমোট কাজ তো, উঠতেই ইচ্ছা করে না। কিন্তু বিকেলের দিকে হাঁটুর পিছনে আর কনুইয়ের ভাঁজে যা চুলকানি শুরু হয়, একেবারে অস্থির লাগে!

পরীক্ষা কাছে চলে আসছে, তাই বই সামনে নিয়ে বসে থাকার সময়টা আরও বেড়ে গেছে। আর মন অস্থির থাকলে হাত নিজে থেকেই চুলকানির জায়গায় চলে যায়, খেয়ালও থাকে না। এই কয়েক সপ্তাহ ধরে একটা খাতায় লিখে রাখছি, কোন দিন কখন বেশি চুলকায়, কী করার পরে একটু কমে। প্রথমে ভেবেছিলাম শুধু মনকে শান্ত রাখার জন্য লিখব, কিন্তু লিখতে লিখতে বোঝা গেল বসার ধরনটাই আসল সমস্যা।

মা একদিন দেখে বললেন, “এভাবে গুটিয়ে বসলে তো রক্ত চলাচলই বন্ধ হয়ে যাবে।” তখন হাসি পেলেও পরে ভাবলাম কথাটা মিথ্যা না।

তাই কয়েকদিন এভাবে চেষ্টা করলাম –
– প্রতি ঘণ্টায় একবার উঠে দাঁড়ানো
– হাঁটুর নিচে বালিশ রেখে বসা, যাতে ভাঁজটা কম চাপ খায়
– ঘামলেই ঠান্ডা পানি দিয়ে জায়গাটা ধোয়া

কিছুদিন মনে হয়েছিল একটু আরাম লাগছে, আবার কিছুদিন আগের মতোই। পুরোপুরি সমাধান হয়েছে এমন কিছু বলব না, তবে খাতায় লিখে রাখার পর অন্তত বুঝতে পারছি কোন দিনগুলোতে বেশি খারাপ যায় আর কোন দিনগুলোতে একটু হালকা থাকে। কাজের চেয়ারটাও পুরনো, বাসা গোছাতে টাকা বাঁচাতে হয়েছিল তাই যা পাওয়া গেছে তা দিয়েই চালাচ্ছি, হয়তো সেটাও একটা কারণ। মাঝে মাঝে মনে হয় এই চেয়ারটা বদলালে হয়তো একটু তফাত পড়ত, কিন্তু এখন হাতে সেই টাকাও নেই আর সময়ও নেই খোঁজার।

এখন পরীক্ষার চাপ আর গায়ের চুলকানি দুটো একসাথে সামলাতে সামলাতে দিনটা কীভাবে যে শেষ হয়ে যায় বুঝিও না। রাতে খাতাটা বন্ধ করার সময় মনে হয় অন্তত আজকের দিনটা লিখে রাখলাম, এটুকুই।

মন্তব্য 3

  • চুপচাপ মেয়ে09.10

    মা যে বললেন গুটিয়ে বসলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, কথাটা আসলেই ঠিক মনে হয়। আমারও রিমোট কাজের কারণে সারাদিন চেয়ারে বসে থাকা হয়, আর বিকেলের দিকে হাঁটুর ভাঁজেই বেশি চুলকায়, ঠিক আপনার মতো। কাজের ফাঁকে হাত ব্যস্ত রাখার জন্য বুনন ধরেছিলাম, তাতে অন্তত অজান্তে চুলকানোর অভ্যাসটা কিছুটা কমেছে। চুলকানি পুরোপুরি যায়নি ঠিকই, কিন্তু মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাসটা করার পর সন্ধ্যার দিকে একটু কম টান

  • ক্লান্ত পাখি09.16

    এটা প্রতি ঘণ্টায় করছেন কতদিন ধরে?

  • → ক্লান্ত পাখিহাসিখুশিলেখক09.16

    আমিও ঠিক এই কাজটা করছি কয়েক সপ্তাহ হলো, দাদা। ঘড়ি ধরে উঠব ভেবেও কাজের চাপে অনেক সময় ভুলে যাই। যেদিন মনে করে করতে পারি সেদিন বিকেলের দিকে হাঁটুর পিছনের চুলকানিটা একটু কম লাগে, কিন্তু রোজ ধরে রাখা এখনো হয়ে ওঠেনি। পরীক্ষার বই নিয়ে বসলে তো সময়ের হিসাবই থাকে না, তখনই সবচেয়ে বেশি ভুলি।

সব লেখার তালিকা দেখুন →