সারাদিন ল্যাপটপের সামনে বসে থাকি, রিমোট কাজ তো, উঠতেই ইচ্ছা করে না। কিন্তু বিকেলের দিকে হাঁটুর পিছনে আর কনুইয়ের ভাঁজে যা চুলকানি শুরু হয়, একেবারে অস্থির লাগে!
পরীক্ষা কাছে চলে আসছে, তাই বই সামনে নিয়ে বসে থাকার সময়টা আরও বেড়ে গেছে। আর মন অস্থির থাকলে হাত নিজে থেকেই চুলকানির জায়গায় চলে যায়, খেয়ালও থাকে না। এই কয়েক সপ্তাহ ধরে একটা খাতায় লিখে রাখছি, কোন দিন কখন বেশি চুলকায়, কী করার পরে একটু কমে। প্রথমে ভেবেছিলাম শুধু মনকে শান্ত রাখার জন্য লিখব, কিন্তু লিখতে লিখতে বোঝা গেল বসার ধরনটাই আসল সমস্যা।
মা একদিন দেখে বললেন, “এভাবে গুটিয়ে বসলে তো রক্ত চলাচলই বন্ধ হয়ে যাবে।” তখন হাসি পেলেও পরে ভাবলাম কথাটা মিথ্যা না।
তাই কয়েকদিন এভাবে চেষ্টা করলাম –
– প্রতি ঘণ্টায় একবার উঠে দাঁড়ানো
– হাঁটুর নিচে বালিশ রেখে বসা, যাতে ভাঁজটা কম চাপ খায়
– ঘামলেই ঠান্ডা পানি দিয়ে জায়গাটা ধোয়া
কিছুদিন মনে হয়েছিল একটু আরাম লাগছে, আবার কিছুদিন আগের মতোই। পুরোপুরি সমাধান হয়েছে এমন কিছু বলব না, তবে খাতায় লিখে রাখার পর অন্তত বুঝতে পারছি কোন দিনগুলোতে বেশি খারাপ যায় আর কোন দিনগুলোতে একটু হালকা থাকে। কাজের চেয়ারটাও পুরনো, বাসা গোছাতে টাকা বাঁচাতে হয়েছিল তাই যা পাওয়া গেছে তা দিয়েই চালাচ্ছি, হয়তো সেটাও একটা কারণ। মাঝে মাঝে মনে হয় এই চেয়ারটা বদলালে হয়তো একটু তফাত পড়ত, কিন্তু এখন হাতে সেই টাকাও নেই আর সময়ও নেই খোঁজার।
এখন পরীক্ষার চাপ আর গায়ের চুলকানি দুটো একসাথে সামলাতে সামলাতে দিনটা কীভাবে যে শেষ হয়ে যায় বুঝিও না। রাতে খাতাটা বন্ধ করার সময় মনে হয় অন্তত আজকের দিনটা লিখে রাখলাম, এটুকুই।
