সকাল থেকে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছি, কিন্তু কাজে মন বসছে না। হাঁটু আর কনুইয়ের ভাঁজে চুলকানিটা আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে, একবার হাত দিলে থামতেই চায় না। এই বসে বসে কাজ করার জীবনটাতেই মনে হয় সব গণ্ডগোলের শুরু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই চেয়ারে বসে থাকি, উঠি শুধু চা খেতে বা ওয়াশরুমে যেতে। শরীরটা যেমন আড়ষ্ট হয়ে যায়, মাথাটাও তেমনি এলোমেলো হয়ে যায়। পুজোর গন্ধ বাতাসে লেগে গেছে অথচ ভেতরে ভেতরে কেমন একটা অস্থিরতা কাজ করছে, বুঝিয়ে বলতে পারব না।
গত সপ্তাহে পাড়ার এক দাদার কাছ থেকে পুরনো একটা স্টাডি টেবিল আর চেয়ার কিনেছিলাম, দামেও কম পড়েছে আর ঘরটাও একটু গোছানো লাগছে। কিন্তু টেবিলটা আনার পর থেকেই কেমন সন্দেহ হচ্ছে, ধুলো থেকেই কি চুলকানিটা বেড়ে গেল নাকি এমনিই বেড়েছে বুঝতে পারছি না। প্রতিটা জিনিস কেনার আগে এখন এই একটা চিন্তা মাথায় ঘোরে, অথচ নতুন জিনিস কেনার মতো অবস্থাও নেই এখন।
পরীক্ষাটা আর 2 মাস পরে, পড়া তো দূরের কথা বই খুলেই বসে থাকি অনেকক্ষণ। মন বলে পড়তে হবে, শরীর বলে আর পারছি না। মা রোজ ফোন করে বলেন, “এত ভাবিস না, শরীর খারাপ হয়ে যাবে।” শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু ভাবনাটা তো আমার হাতে নেই যে চাইলেই বন্ধ করে দেব।
কিছুদিন ধরে রাতে একটা খাতায় লিখে রাখার চেষ্টা করছি, দিনে কী হলো, মনে কী চলছে। ভাবছিলাম লিখলে হয়তো একটু হালকা লাগবে। কিন্তু লিখতে লিখতে হাতই থেমে যায়, চুলকানির জায়গাটায় হাত চলে যায়, আর মনের মধ্যে সেই একই চিন্তাগুলো ঘুরতেই থাকে। রাতে শুয়ে থাকি অনেকক্ষণ, ফ্যানের আওয়াজ শুনি, পাশের ঘর থেকে টিভির শব্দ আসে, তবু ঘুম আসে না সহজে।
অফিসের video call-এও মাঝে মাঝে মন সরে যায় অন্য কোথাও। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতে দেরি হয়ে যায়। কাজটা ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তাও বুঝতে পারি না ভালো করে। সবকিছু একসাথে মাথার মধ্যে ভিড় করে আছে, চুলকানি, পরীক্ষা, কাজ, আর এই একলা বসে থাকা ঘরটা।
আজকের দিনটা এভাবেই কেটে গেল, লিখে রাখলাম যাতে অন্তত এখানে একটু রাখা থাকে।
