রাত প্রায় দেড়টা, চোখ লেগে আসছিল তাও ঘুম হলো না। হাত দুটো নিজে থেকেই কনুইয়ের কাছটায় চলে যাচ্ছিল, খেয়াল করতেই থামালাম। এই কয়দিন এরকমই হচ্ছে, শরীর যেন মাথার আগেই টের পেয়ে যায় ভেতরে কী চলছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি একা ঘরে বসে কাজ করি, চেয়ার ছেড়ে ওঠাই হয় না ঠিকমতো। মাঝে মাঝে মনে হয় সারাদিনে একটাও কথা বলিনি কারো সাথে, শুধু মেসেজ আর মেইল। সেই চুপচাপ সময়টায় মাথার মধ্যে একটার পর একটা দুশ্চিন্তা এসে জমা হতে থাকে, আর হাত গিয়ে বসে আঁচড়ে দেয়।
খাতা লেখা শুরু করেছিলাম এই ভেবে যে মনটা একটু হালকা হবে। প্রথম কয়েকদিন সত্যিই ভালো লাগছিল, লিখতে লিখতে মনে হতো সব একটু গুছিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু এখন খাতা খুললেই সেই একই লাইনগুলো ঘুরেফিরে আসে, ভয় নিয়ে, পরীক্ষা নিয়ে, শরীর নিয়ে। পরীক্ষা বাকি আছে ঠিক 2 মাস, প্রস্তুতি যতটা এগোনোর কথা ছিল ততটা এগোয়নি, আর সেই চাপটাও কোথাও গিয়ে গায়েই জমা হয়।
গতকাল একজনের থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড একটা চেয়ার কিনে আনলাম, পুরনো হলেও দাম মোটামুটি সস্তায় হয়ে গেল বলে খুশিই হয়েছিলাম। কিন্তু রাতে বসতে গিয়ে খেয়াল করলাম হাতের চামড়া আবার লাল হয়ে উঠছে। ধুলো থেকে নাকি এমনিই বেড়েছে বুঝতে পারছি না, তবে এখন নতুন কিছু ঘরে আনতে গেলেই একটু ভয় ভয় লাগে।
মা ফোনে বলছিলেন, “এত রাত জেগে কী লাভ, ঘুমিয়ে পড়ো।” কথাটা ভুল না, কিন্তু ঘুম তো চাইলেই আসে না। মাথার মধ্যে যেন একটা পাখা সবসময় ঘুরছে, থামানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।
এখানে থাকা অনেকেই হয়তো এরকম রাত চেনেন, যেখানে গায়ের চুলকানির চেয়ে মাথার ভেতরের অস্থিরতাটাই বেশি কষ্ট দেয়। সেরে ওঠার শুরুটাই এমন এলোমেলো হবে ভাবিনি। মনে হচ্ছিল একটু একটু করে ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু কিছুক্ষন ভালো থাকলেই আবার আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছি। আজকের রাতটাও ওরকমই একটা রাত, লিখে রাখলাম যাতে অন্তত মনে থাকে কবে কেমন ছিল।
