← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

সহকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বুঝি না

ঘরে বসে সারাদিন কাজ করি।
সকাল থেকে রাত অবধি কম্পিউটারের সামনে থেকে ওঠাই হয় না।

আজ সকাল থেকে মনটা কেমন ভার হয়ে আছে।
কারণ ঠিক বলতে পারছি না।

মিটিং শুরুর আগে হাত ঘামছিল।
স্ক্রিনে সবার মুখ দেখে মনে হলো, আমি যেন একটু বেশি সরে গেছি সবার থেকে।
কথা বলার সময় গলা কেমন আটকে যায়।
বেশি কথা বললে ক্লান্ত লাগে, কম বললে আবার একা লাগে।
এই হিসেবটাই কিছুতেই মেলাতে পারছি না।

কাজের ফাঁকে হাতে উল নিয়ে বসি।
বোনার সময় হাত ব্যস্ত থাকে, মাথাটাও একটু শান্ত হয়।
কিন্তু আজ বুনতে বসেও হাত কুটকুট করছিল।
থামিয়ে দেখলাম, কব্জির কাছটা লাল হয়ে আছে!
এই কয় সপ্তাহে সবে একটু একটু করে যত্ন নেওয়া শুরু করেছি, তাও এমন হলো।

রাতে একটা খাতায় দিনের কথা লিখে রাখি।
কী করলাম, কেমন লাগল, সব টুকরো টুকরো করে লিখি।
সবাই এখানে যেমন লেখেন, আমিও নিজের মতো করে লিখে রাখি।
লিখলে মনে হয় ভারটা একটু হালকা হয়।
আজকের পাতাটা অবশ্য শুধু চিন্তাতেই ভরে গেল।

ঘরে একা বসে কাজ করার এই জীবনটা মাঝে মাঝে বড় ভারী মনে হয়।
মানুষের সঙ্গে কতটা কাছে থাকব, কতটা দূরে থাকব, তার হিসেবটাই এখনো শিখে উঠতে পারিনি।

আজকের দিনটা এভাবেই গেল।
মনও ভার, হাতও একটু জ্বলছে।

মন্তব্য 5

  • হাসিখুশি09.11

    মিটিং এর আগে হাত ঘামানোটা আমার সাথেও হয় দাদা! আমিও তো সারাদিন বাসায় বসে কাজ করি, স্ক্রিনের সামনে বসে থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে মনে হয় সবার থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। গত মাসে একটা রিভিউ মিটিং এর আগে ঠিক এমন লাগছিল, গলা শুকিয়ে আসছিল আর হাত একটু কাঁপছিলও। তখন থেকে আমিও রাতে খাতায় লিখে রাখি কী হলো কেমন লাগলো, লিখতে লিখতে মাথাটা একটু হালকা লাগে। বোনার সময় হাত চুলকানো শুরু হওয়াটা নিশ্চয়ই খুব

  • হাসিখুশি09.12

    রাতে লেখার অভ্যাসটা আমারও আছে দাদা, ঘুমানোর আগে ১০টার দিকে বসে খাতায় দিনটা কেমন গেল লিখি। বোনার সময় হাত ব্যস্ত রাখাটাও করি, মাথা একটু হালকা লাগে ঠিকই। কিন্তু কব্জিতে লাল দাগ দেখে একটু চিন্তায় পড়লাম, আমারও মাঝে মাঝে হাতের কাছটা এমন হয়ে যায় হঠাৎ করে। যত্ন শুরু করার পরও এমন হলে মনে হয় শরীরটা মানিয়ে নিতে একটু সময় নিচ্ছে, তাই বলে থেমে যাওয়ার দরকার নেই মনে হয়।

  • হাসিখুশি09.12

    কথা বেশি বললে ক্লান্ত আর কম বললে একা লাগে, এই হিসেবটা আমার সাথেও মেলে না দাদা। গত সপ্তাহে একটা কলে টানা 45 মিনিট কথা বলার পর হাতের কব্জির কাছটা গরম হয়ে চুলকাচ্ছিল, কল শেষ হতেই সোজা গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেছিলাম। তারপর থেকে মিটিং এর দিন উলের কাজ 2 বার কমিয়ে দিয়েছি, হাতে বেশি চাপ পড়লে চুলকানি বাড়ে বলে মনে হচ্ছে। পুরো চুপ থেকেও শান্তি নেই, বেশি বললেও নেই, এই মাঝামাঝি জায়গাটা খুঁজতে

  • হাসিখুশি09.12

    সকালে কারণ ছাড়াই মন ভার হয়ে থাকাটা আমার সাথেও প্রায়ই হয় দাদা। রাতে ডায়েরিতে লেখার সময় খেয়াল করেছি, এই রকম দিনগুলোতে ঘুমও ভালো হয় না, সকালে উঠেই কেমন একটা চাপ লাগে। কিছুদিন আগে পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপে ঠিক এই রকম লাগছিল, কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না, শুধু বুকটা ভার লাগছিল। তখন হাতে কাজ রাখার চেষ্টা করেছিলাম, পুরনো জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ছোট ছোট কাজ করে সময় কাটানো। মন পুরো হালকা হয়নি, তবে

  • হাসিখুশি09.17

    সবার মতো গুছিয়ে লিখতে হবে এমন চাপ নেওয়ার দরকার নেই দাদা যেভাবে মনে আসছে সেভাবে লিখলেই চলে। আমারও সারাদিন বসে কাজ করার পর রাতে খাতায় লিখতে গেলে লাইনগুলো এলোমেলোই হয়ে যায়।

সব লেখার তালিকা দেখুন →