← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

ভিডিও কলে ক্যামেরা অন করতে ভয় লাগে

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অফিসের প্রায় সব মিটিং ভিডিও কলে হচ্ছে, WFH শুরু হওয়ার পর থেকে এটাই নিয়ম হয়ে গেছে। প্রথম প্রথম সমস্যা হয়নি, কিন্তু আজকাল ক্যামেরা অন করার আগে হাত আর গলার দিকে একবার তাকিয়ে নিতে হয়, লাল দাগ বেশি স্পষ্ট নাকি বোঝার জন্য।

গলার একপাশে আর হাতের কব্জির কাছে দাগগুলো চাপ বাড়লেই বেশি ফুটে ওঠে, এটা এতদিনে বুঝে গেছি। আর অফিসে যা চলছে, তাতে চাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। সামনে একটা সার্টিফিকেশন পরীক্ষা আছে, প্রস্তুতি নিতে নিতেই রাত কাবার হয়ে যায়, আর মাথায় প্রশ্ন ঘুরতে থাকলে হাত এমনিই কব্জির কাছে চলে যায়, খেয়ালও থাকে না।

মিটিংয়ের আগে অজুহাত বানানো একটা রুটিন হয়ে গেছে, ‘নেট স্লো আছে’ বলে ক্যামেরা বন্ধ রাখি, টিমের বাকিরা সবাই অন থাকে, আমি একা কালো বক্স হয়ে বসে থাকি। প্রতিবার মনে হয় এবার হয়তো কেউ জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু কেউ কিছু বলে না, উল্টে সেটাই বেশি অস্বস্তির লাগে, যেন সবাই বুঝেও কিছু বলছে না।

আজকাল রাতে ঘুম আসতে অনেক দেরি হয়, চোখ বন্ধ করলেই মিটিংয়ের মুহূর্তগুলো আর পরীক্ষার সিলেবাস একসাথে মাথায় ঘুরতে থাকে। বালিশের পাশে খাতা রাখি, মনে যা আসে টুকে রাখার জন্য, কিন্তু লিখে ফেললেই যে হালকা লাগবে এমন না, বেশিরভাগ রাতে লেখার পরেও মন তেমনই দৌড়াতে থাকে।

কিবোর্ড আর মনিটরটা সেকেন্ডহ্যান্ড কিনেছিলাম বাজেট বাঁচাতে, ঘর গোছানোর সময় বেশিরভাগ জিনিসই পুরনো বাজার থেকে আনা। এখন মাঝেমধ্যে মনে হয় কিবোর্ডের পুরনো ধুলো থেকেও হয়তো কিছু বাড়ছে, যদিও এটা নিশ্চিত করে বলার মতো কিছু নেই, শুধু সন্দেহ মাথায় ঘোরে।

দিনের হিসেবটা মোটামুটি এরকম দাঁড়িয়েছে –
– সকালে উঠেই হাতের দাগ চেক করা
– সারাদিন চেয়ারে বসে কাজ, মাঝে মাঝে হাত থামিয়ে দেখা কতটা লাল হলো
– মিটিংয়ের আগে ক্যামেরা অফ রাখার অজুহাত ভাবা
– রাতে পড়তে বসে খেয়াল করা হাত আবার কব্জির কাছে চলে গেছে

দাদা-দিদিদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই চক্রটা চেনেন, চাপ বাড়ে, হাত ওখানে চলে যায়, তারপর দাগ বাড়ে, তারপর সেই দাগ লুকানোর চাপ আরও বাড়ে। এই বৃত্তটা থেকে বেরোনোর কোনো রাস্তা এখনো খুঁজে পাইনি, শুধু রোজ এর মধ্যে দিয়েই দিনটা পার করছি।

আজ সকালেও মিটিংয়ে ক্যামেরা বন্ধ রেখেছিলাম, বলেছিলাম নেট সমস্যা করছে। আসলে করছিল না।

মন্তব্য 0

  • এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
সব লেখার তালিকা দেখুন →