গত কয়েকদিন ধরে রাতে একটা খাতায় লিখছি, সারাদিনে কী হলো, মনটা কেমন ছিল, শরীরে চুলকানি কখন বেশি হলো — এসব টুকিটাকি সব। মাথার মধ্যে সবকিছু জট পাকিয়ে যাচ্ছিল, তাই ভাবলাম লিখে ফেললে হয়তো একটু হালকা লাগবে।
এর আগে রাতে শুয়ে শুয়ে মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরত, ঘুম আসতে অনেক দেরি হতো। কালকের কাজ কতটা বাকি, পরীক্ষার সিলেবাস কতটা পড়া হয়নি, এসব ভাবতে ভাবতে বুকটা ধড়ফড় করত মাঝেমধ্যে। তখন মনে হলো এভাবে শুধু মাথার মধ্যে জমিয়ে রাখলে চলবে না, কোথাও একটা বের করে দিতে হবে।
বাড়ি থেকে কাজ করি, তাই সারাদিন একই চেয়ারে বসে থাকা হয়। ল্যাপটপের সামনে বসে বসে ঘাড় আর কব্জির কাছটায় চুলকানি বাড়ে, বিশেষ করে বিকেলের দিকে। আগে এতটা প্যাটার্ন আছে খেয়াল করিনি, কিন্তু লিখতে লিখতে বুঝলাম কাজের চাপ বাড়লেই হাতের কাছটা লাল হয়ে যায়।
রোজ রাত 9টা নাগাদ লিখতে বসি। ফোনটা একটু দূরে রেখে, লাইট কমিয়ে, খাতা খুলি। প্রথম দিন কী লিখব বুঝতে পারিনি, শুধু ‘আজ ভালো লাগেনি’ লিখে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখন একটু গুছিয়ে লিখতে পারছি।
যা যা লিখি রোজ —
– ঘুম কখন ভেঙেছে
– চুলকানি কোথায় বেশি হয়েছে
– মনটা কতটা অস্থির লেগেছে
– কাজের মধ্যে কোন সময়টা কঠিন লেগেছে
মাঝে একদিন তো পাশের ফ্ল্যাটে সকাল থেকে রিনোভেশনের কাজ চলছিল, মাথা পুরো ধরে গিয়েছিল, সেদিনের পাতায় শুধু রাগের কথাই লিখেছিলাম। পরে পড়ে নিজেরই হাসি পেয়েছিল, এতটা রাগ জমে ছিল ভেতরে সেটা লিখেই বোঝা গেল।
পরীক্ষার আর 2 মাস বাকি, প্রস্তুতির চাপটাও লেখার মধ্যে চলে আসে। কিছুদিন আগে সেকেন্ড হ্যান্ড থেকে একটা পুরনো চেয়ার কিনেছিলাম, দামে সস্তা পড়েছিল বলে খুশিই হয়েছিলাম! কিন্তু ওই চেয়ারে বসার পর থেকে হাতের কাছটা আরও বেশি চুলকাচ্ছে, ধুলো না কাপড় কে জানে।
বান্ধবীকে বললাম এই কথা, ও বলল, “তুই একটু কম ভাব রে, শরীরটাও তো একসাথে রিঅ্যাক্ট করে।” শুনতে সহজ লাগে, কিন্তু ভাবা বন্ধ করাটা অতটা সহজ না।
লিখে যে পুরোপুরি ভালো হয়ে যাচ্ছি তা না, তবে রাতে লেখার সময়টায় মাথাটা একটু ফাঁকা লাগে। দিনের মধ্যে যা যা জমে থাকে সব একবার খাতায় ঢেলে দিলে ঘুমটা একটু তাড়াতাড়ি আসে। যদিও চুলকানি পুরোপুরি কমে না, তবু কোন সময়টায় বেশি হয় সেটা বুঝতে পারছি এখন।
আজ রাতেও লিখব, এটুকুই এখন রুটিন হয়ে গেছে। কালকের কথা কালকে দেখা যাবে।
