← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

পুরনো চেয়ার আনার পর হাঁটুর চুলকানি

গত কয়েকদিন ধরে একটা জিনিস মাথায় ঘুরছে, লিখে ফেললে হয়তো একটু হালকা লাগবে ভেবে বসলাম। বাড়িতে বসেই অফিসের কাজ করি, সারাদিন একই জায়গায় বসে থাকতে হয়, তাই কিছুদিন আগে বাজার থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড একটা চেয়ার কিনে এনেছিলাম। দাম কম ছিল, দেখতেও বেশ ভালো লাগছিল, প্রথম দিকে কোনো সমস্যাই হয়নি। কিন্তু তারপর থেকেই হাঁটুর ভাঁজে চুলকানিটা যেন নতুন করে শুরু হলো।

সারাদিন একটানা বসে থাকলে পায়ের ভাঁজের জায়গাটা গরম হয়ে যায়, ঘামও একটু একটু করে জমে। রাতের দিকে ওই জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি চুলকায়, হাত না দিয়ে থাকতে পারি না। চেয়ারের কাপড়ের জন্যই কি না বুঝতে পারছি না, নাকি এমনিতেই আবহাওয়া বদলানোর জন্য বেড়েছে… এই প্রশ্নটাই মাথার মধ্যে সারাক্ষণ ঘুরতে থাকে।

এর মধ্যে পরীক্ষার পড়াও জমে আছে। বই খুলে বসি, কিন্তু মন বসে না, একটু পরেই হাত হাঁটুর দিকে চলে যায়। রাত জেগে পাতা উল্টাই ঠিকই, কিন্তু মাথায় কিছু ঢোকে না, শুধু চুলকানির কথাই ঘুরপাক খায়। তারপর নিজের ওপরই রাগ হয়, এত সময় নষ্ট হচ্ছে ভেবে মনটা আরও অস্থির হয়ে যায়।

এই লেখাটা শুরু করেছিলাম মনটাকে একটু ধরে রাখার জন্য, ভেবেছিলাম লিখলে চিন্তাগুলো একটু গুছিয়ে যাবে। সবে শুরু করেছি বলেই বোধহয় ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারছি না, কীভাবে লিখলে ভালো হয় তাও বুঝি না ঠিক। উল্টে হচ্ছে, লিখতে বসলেই সব একসাথে মনে পড়ে যায় আর বুকের ভেতরটা আরও চেপে ধরে।

– চেয়ারটা কিনলাম, প্রথমে ভালোই লাগছিল
– কিছুদিন পরই হাঁটুর ভাঁজ চুলকাতে শুরু করল
– রাতে বাড়ে, পড়ায় মন বসে না
– মা দেখেই বলে দিলেন এটাই কারণ

মাকে দেখানোর পর তিনি তো সঙ্গে সঙ্গেই বলে দিলেন, “পুরনো জিনিসে অন্যের ময়লা লেগেই থাকে, তাই এমন হচ্ছে।” শুনে ভালো লাগেনি একদমই, চেয়ারটা তো ভালো করে মুছেই এনেছিলাম, তবু কথাটা কানে বাজতেই থাকল সারাদিন। ঘর সাজানোর জিনিসপত্র সেকেন্ড হ্যান্ডেই কিনি প্রায়ই, এতে তো এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি, তাহলে এবারই কেন এমন হলো কে জানে।

বাড়ি থেকে কাজ করি বলে আশেপাশে কেউ থাকে না, সারাদিন নিজের সাথেই কথা বলতে হয় মনে মনে। অফিসে থাকলে হয়তো একটু অন্যদিকে মন যেত, এখানে চুলকানি হলেও একা, পড়ায় মন না বসলেও একা। ওপরতলার সংস্কারের কাজ চলছে বলে দিনভর ঠকঠক শব্দ হচ্ছে, তাতে মাথাটা আরও ধরে থাকে, কাজেও মন বসে না ঠিকমতো।

কাজের চাপ, পরীক্ষার চিন্তা, তার ওপর এই চুলকানি, সব একসাথে জড়িয়ে গিয়ে মাথাটা কেমন ভার হয়ে থাকে। রাতে শুয়ে থাকি, ঘুম আসে না, হাঁটুর কাছটায় হাত চলেই যায় বারবার। সকালে উঠে আবার সেই একই চেয়ারে গিয়ে বসতে হয়, কাজ তো করতেই হবে। এই বৃত্তটা থেকে ঠিক বেরোতে পারছি না, শুধু আজকের কথাটা লিখে রাখলাম।

মন্তব্য 1

  • চুপচাপ মেয়ে09.16

    আপনার লেখাটা পড়ে নিজের কথা মনে পড়ে গেল। বাসায় বসে অফিসের কাজ করি বলে সারাদিন একই জায়গায় বসে থাকতে হয়, হাঁটুর ভাঁজে ঘাম জমে থাকার অনুভূতিটা খুব চেনা লাগছে। কিছুদিন আগে বসার ভঙ্গি বদলানোর পর আমারও ঠিক একই জায়গায় নতুন করে চুলকানি শুরু হয়েছিল, তখনও বুঝতে পারিনি কাপড়ের কারণে নাকি বসে থাকার ধরনের কারণে। রাতে ওই জায়গাটা বেশি অস্থির লাগে এই অংশটাও মিলে যাচ্ছে, হাত সরিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন হয়।

সব লেখার তালিকা দেখুন →