সারাদিন বাসায় বসে কাজ করি, চেয়ার থেকে উঠতেও ইচ্ছে করে না। কাজের ফাঁকে ফাঁকে হাতের কনুইয়ের ভাঁজটা চুলকে যাচ্ছে, খেয়াল করলাম রাতের দিকে বেশি বাড়ছে। মনে হচ্ছিল লিখে রাখলে মাথাটা একটু শান্ত হবে, তাই একটা খাতা কিনে রোজ রাতে যা মনে আসে লিখতে শুরু করেছি। কিন্তু লিখতে লিখতেই হাতের চামড়া টানটান হয়ে যায়, তখন কলম রেখে ওই জায়গাটা চুলকাতে হয়, তারপর আবার লিখি, এভাবেই চলছে।
পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে সাথে সাথে, মাথায় সিলেবাসের চাপ থাকলে শরীরও যেন সেটা বুঝে যায়। পড়তে বসলে প্রথমে ঘাড়ের কাছটা চুলকায়, তারপর কব্জির কাছটা, তারপর পায়ের পাতা। এক জায়গা থামালে আরেক জায়গা শুরু হয়। মাঝেমধ্যে মনে হয় শরীরটাই আমার অস্থিরতা বুঝে সাড়া দিচ্ছে, মনটা যত অশান্ত তত চুলকানিও বাড়ে।
ঘরের জিনিসপত্র বেশিরভাগই সেকেন্ডহ্যান্ড কেনা, পুরনো টেবিল, পুরনো ল্যাম্প, এমনকি বসার গদিটাও অন্য কারও ব্যবহার করা। টাকাপয়সার হিসেব মাথায় রেখে চলতে হয় বলে নতুন কিছু কেনার কথা ভাবিই না তেমন। কিন্তু এই পুরনো কাপড়ের গদিতে বসেই মনে হয় ধুলো জমে থাকে, তাই থেকেই বোধহয় আরও চুলকায়। মা প্রতিবার ফোনে বলেন, “নতুন কিছু কিনে ফেল, শরীরটা তো আগে।” শুনতে ভালো লাগে কিন্তু হিসেবটা তো আমাকেই মেলাতে হয়।
পুজোর গন্ধ চারদিকে লাগতে শুরু করেছে, পাড়ায় প্যান্ডেলের বাঁশ পড়ে গেছে, অথচ আমার মাথায় শুধু পরীক্ষা আর এই চুলকানির চিন্তা। বাড়ির লোকজন আসবে, সবাইকে হাসিমুখে দেখাতে হবে, অথচ হাতের এই দাগগুলো লুকোতে লুকোতেই দিন যাচ্ছে। রাতে খাতা খুলে বসি, লিখতে লিখতে কখন যে চোখ ভিজে যায় বুঝিও না, লিখে ফেলাটাই এখন একমাত্র জায়গা যেখানে কাউকে কিছু বোঝাতে হয় না।
তবু কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না। কাজ, পরীক্ষা, পুজো, চুলকানি, সব একসাথে এসে জড়ো হয়েছে, আর আমি খালি লিখেই যাচ্ছি, যদি একটু হালকা লাগে।
