← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

ঘরে বসে কাজ করি, মনটা তবু অস্থির

সকাল থেকে ল্যাপটপের সামনে বসে আছি, কাজ শেষ হচ্ছেই না, আর মনটাও কেমন এলোমেলো লাগছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করি বলে সারাদিন একই চেয়ারে বসে থাকা হয়, নড়াচড়া কম, আর তার ওপর মনের ভেতর একটা চাপা অস্থিরতা লেগেই থাকে। স্ট্রেস বাড়লেই চামড়াও কেমন সাড়া দেয়, হাঁটুর ভাঁজে আর কনুইয়ের কাছটায় চুলকানি শুরু হয়ে যায়, আর তখন কাজে মন বসানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

কিছুদিন আগে সেকেন্ড হ্যান্ড থেকে একটা চেয়ার আর ছোট টেবিল কিনেছিলাম, দামে সস্তা পেয়ে খুশিই হয়েছিলাম, কিন্তু বসার ভঙ্গিটা ঠিক আগের মতো আরামের না, তাই পিঠ আর হাঁটু দুটোই একটু বেশি টের পাচ্ছি। এই সময়টায় বৃষ্টি লেগেই আছে, বাতাসে একটা ভ্যাপসা ভাব, তার সঙ্গে পুরনো আসবাবের ধুলোটাও হয়তো একটু বেশি লাগছে গায়ে, কারণ চেয়ারটা আনার পর থেকেই চুলকানি একটু বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। জিনিসপত্র পুরনো কিনে সংসার সাজানোর একটা আলাদা আনন্দ আছে ঠিকই, তবে মাঝে মাঝে মনে হয় শরীরটা আগে বুঝে কেনা উচিত ছিল।

অফিসের একটা কলের মাঝপথে হাত চুলকাতে চুলকাতে ক্যামেরা বন্ধ করে দিতে হলো, কেউ কিছু বলেনি ঠিকই, কিন্তু নিজের কাছেই কেমন একটা অস্বস্তি হলো। পরীক্ষার দিনও কাছে চলে আসছে, পড়ার টেবিলে বসলেই কেমন যেন হাত নিশপিশ করে, না চাইলেও চুলকে ফেলি, আর তারপর দাগ দেখে নিজেরই খারাপ লাগে। মা প্রায়ই বলেন, “এত চুলকাস না, দাগ বসে যাবে।” বলা তো সহজ, কিন্তু ওই মুহূর্তে হাতটা যেন নিজের কথা শোনে না।

মাথার ভেতর একসঙ্গে অনেক কিছু ঘুরতে থাকে, পরীক্ষা, কাজের ডেডলাইন, আর এই চুলকানির চক্র, সব মিলিয়ে রাতে ঘুমও ঠিকমতো আসে না। রাতে সব শান্ত হয়ে গেলে একটা খাতায় দিনের কথা লিখে রাখি, মনটা একটু হালকা লাগে বলে। যদিও লিখেও সব সময় শান্তি মেলে না, তবু লিখতে বসলে মনে হয় অন্তত কিছু একটা করছি। এখানে লিখলেও একটু হালকা লাগে, তাই লিখে গেলাম। আজকের দিনটা এভাবেই কাটল, হাঁটু চুলকাতে চুলকাতে আর মনের ভেতর একটা চাপা টানাপোড়েন নিয়ে।

মন্তব্য 0

  • এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
সব লেখার তালিকা দেখুন →