আজ রাতেও ঘুম আসছিল না। ল্যাপটপ বন্ধ করে শুয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু মাথার মধ্যে একটার পর একটা চিন্তা ঘুরছিল, আর হাত-পায়ে চুলকানিটাও ঠিক তখনই বেশি করে শুরু হলো।
সারাদিন বাড়িতে বসে কাজ করি, চেয়ার থেকে প্রায় উঠিই না বলা যায়। অফিসের কাজ ভিডিও কলেই সারতে হয়, সহকর্মীদের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা প্রায় হয়ই না। মাঝেমধ্যে মনে হয় সারাদিনে একটাও সত্যিকারের কথা বলিনি কারো সঙ্গে, শুধু মেসেজ আর মেইলেই দিন কেটে যায়। তাই কিছুদিন আগে একটা খাতা কিনেছিলাম, ভাবলাম মনের মধ্যে যা ঘুরপাক খায় তা লিখে রাখলে হয়তো একটু হালকা লাগবে। কিন্তু লিখেও দেখছি অস্থিরতাটা কমছে না, বরং লিখতে লিখতেই হাত কাঁপে মাঝেমধ্যে।
ঘরে সারাদিন এসি চলে, তাই ত্বকটা কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। ক্রিম মাখলেও কিছুক্ষণ পরই আবার চুলকাতে শুরু করে, বিশেষ করে হাঁটুর পেছনে আর কনুইয়ের কাছটায়। রাতে ঘুমের মধ্যেও হাত চলে যায় ওখানে, সকালে উঠে দেখি লাল হয়ে আছে।
গত সপ্তাহে পুরনো একটা টেবিল আর চেয়ার সেকেন্ড হ্যান্ডে কিনে এনেছিলাম, ঘরটা একটু গুছিয়ে নেওয়ার ইচ্ছে ছিল। জিনিসগুলো পেয়ে ভালোই লেগেছিল প্রথমে, তবে ক-দিন যেতে না যেতেই আবার সেই একই অস্থিরতা ফিরে এলো। নতুন টেবিলে বসেও কাজে মন বসাতে পারছি না, বারবার হাত চুলকায়, আর মাথায় শুধু একটা কথাই ঘোরে, এই অবস্থাটা কবে ঠিক হবে।
সামনে পরীক্ষা আছে, দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই ভেতরে ভেতরে চাপ বাড়ছে। পড়তে বসলেও মন টিকছে না, চুলকানির কথা ভাবি, পরীক্ষার কথা ভাবি, সব একসঙ্গে মাথায় চেপে বসে। মা ফোনে বলেছিলেন, “একটু ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে।” কথাটা শুনতে ভালোই লাগে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে অস্থিরতাটা চলছে সেটা কাউকে ঠিক বোঝাতে পারি না।
গত রাতে 3টা পর্যন্ত জেগে খাতায় একই কথা কয়েকবার করে লিখেছি। লিখে রাখলে অন্তত একটা প্রমাণ থাকে, মনে হয় এই সময়টাও একদিন কেটে যাবে। আজকের দিনটা এভাবেই গেল, মনটা এখনো পুরো শান্ত হয়নি।
