আজ সারাদিন কাজ করতে করতে হঠাৎ বুকের মধ্যে একটা চাপ অনুভব করলাম। কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই, কিন্তু মনটা কেমন যেন অস্থির হয়ে ছিল সন্ধ্যা থেকেই। কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে থাকতে হাতদুটো এমনিতেই একটু চুলকাতে শুরু করল, আর তার সাথে সাথে মাথার ভেতরটাও ঘুরতে লাগল।
আমি বাড়ি থেকেই কাজ করি, তাই সারাদিন চেয়ারে বসে থাকা হয়। কয়েকদিন আগে পুরনো জিনিসপত্রের বাজার থেকে একটা সেকেন্ডহ্যান্ড চেয়ার কিনেছিলাম, দাম কম বলে প্রথমে খুশিই হয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওই চেয়ারটায় বসলেই হাঁটুর কাছটা একটু বেশি চুলকায়। হয়তো কাপড়ে কিছু লেগে আছে, হয়তো শুধু আমার মনের ভুল, ঠিক বুঝতে পারছি না। ঘরের বাকি জিনিসপত্রও প্রায় সবই পুরনো বাজার থেকে কেনা, নতুন করে সব কেনার সামর্থ্য এখন নেই বলে যা আছে তা দিয়েই চালাতে হচ্ছে।
এখন তো বর্ষার সময়, ঘরের ভেতরেও কেমন একটা ভ্যাপসা ভাব। ঘাম হলেই চুলকানিটা আরও বাড়ে, তাই ফ্যান ছেড়ে বসে থাকি সারাক্ষণ। সারাদিন ঘরেই থাকি বলে বাইরের মানুষজনের সাথে দেখাসাক্ষাৎও প্রায় হয় না, কারো সাথে দুটো কথা বলার মতোও কেউ নেই আশেপাশে। এই একলা থাকাটাও মাঝেমাঝে মাথার ভেতর জমে গিয়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয় বলে মনে হয়।
পরীক্ষার কথা ভাবলেই বুক ধড়ফড় করে। হাতে আছে 2 মাস, অথচ পড়ায় মন বসছে না কিছুতেই। বই খুলে বসি, কিন্তু পাতা উল্টাতে উল্টাতেই আঙুল চুলকাতে শুরু করে, আর মনোযোগ পুরোটাই সেদিকে চলে যায়। রাত 9টার পর থেকে এই সমস্যাটা বেশি হয়, ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে আগে।
রিকভারি শুরু করেছি কিছুদিন হল, কিন্তু এখনও তেমন কোনো পার্থক্য টের পাচ্ছি না। মাঝেমাঝে মনে হয় আগেই বরং ভালো ছিলাম, অন্তত এত চিন্তা তো করতে হত না। মা একদিন ফোনে বললেন, “তুই এত ভাবিস কেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।” কথাটা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে পুরোপুরি বিশ্বাস হয় না।
আজকের দিনটা মোটামুটি এরকম ছিল-
– সকাল থেকে কাজ, বিকেলে একটু বিরতি
– সেকেন্ডহ্যান্ড টেবিলটা মুছে পরিষ্কার করলাম
– রাতে বই নিয়ে বসেও কিছুই মাথায় ঢোকেনি
এই অসস্তি রোজকার হয়ে যাচ্ছে, আর সেটা নিয়ে নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। কাউকে ঠিকমতো বলতেও পারি না, কারণ বললে মনে হয় সবাই ভাববে সামান্য ব্যাপার নিয়ে বাড়াবাড়ি করছি। এখানে আপনাদের মাঝে লিখলে অন্তত একটু হালকা লাগে, যদিও তেমন কিছু বদলায় না। তবু আজ লিখে রাখলাম, নাহলে ভেতরে জমে থাকত, কষ্ট হয় গো।
