← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

ঘরে একা সারাদিন, মন অস্থির থাকে

ঘরে বসে কাজ করি সারাদিন, ল্যাপটপের সামনে থেকে প্রায় নড়ি না। আজ সকাল থেকেই মনটা কেমন ভার হয়ে আছে, কারণটা ঠিক ধরতে পারছি না। হয়তো পরীক্ষার চাপ, হয়তো শুধু একা থাকার ক্লান্তি। পরীক্ষার আর 2 মাস বাকি, প্রতিদিন কিছু না কিছু পড়তে বসি, কিন্তু মন সেখানে টেকে না।

চুলকানিটা আজ আবার বেড়েছে, বিশেষ করে হাঁটুর ভাঁজে আর কনুইয়ের কাছটায়। সারাদিন চেয়ারে বসে থাকি বলেই হয়তো ঘাম বসে যায়, তারপর চুলকাতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহ আগে একটা পুরনো চেয়ার এনেছিলাম, দরদাম করে বেশ সস্তায় পেয়েছিলাম বলে সেদিন খুশিই হয়েছিলাম। এখন মাঝে মাঝে ভাবি, ওই কাপড়ের ভাঁজে কিছু লেগে আছে কিনা, কে জানে। নতুন কিছু কেনার সামর্থ্য নেই, তাই এটা নিয়েই চালাতে হবে।

এদিকে আবহাওয়াটাও কেমন যেন, সারাদিন ঘামে জামা ভিজে থাকে, ফ্যানের নিচে বসেও আরাম হয় না। এই ভেজা ভাবটাই বোধহয় চুলকানি আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাড়িতে একা থাকি প্রায় সারাদিন। কাজ শেষ হলেও কথা বলার মতো কেউ থাকে না আশেপাশে। রাত হলে বাড়ির লোকজন ফেরে, তখন একটু কথা হয়, কিন্তু তার আগ পর্যন্ত ঘরটা একদম চুপচাপ থাকে। এই চুপচাপটাই মাঝে মাঝে খুব ভারী লাগে, মনে হয় মাথার ভেতর অনেক কথা জমে থাকে, বলার জায়গা পায় না।

কয়েকদিন ধরে একটা খাতায় লিখে রাখছি, কখন চুলকানি বাড়ে, কখন মনটা বেশি অস্থির থাকে। আজ লিখে দেখলাম, রাত 9টা নাগাদ দুটোই প্রায় একসঙ্গে শুরু হয়। খাতাটা দেখে মনে হলো, শরীর আর মন বোধহয় একসঙ্গেই খারাপ হয়, আলাদা করে ভাবার উপায় নেই।

পরীক্ষার পড়া নিয়ে বসলেও মন সেখানে থাকে না, বারবার হাত চলে যায় হাঁটুর দিকে। মা ফোনে বলেন, “একটু বাইরে বেরিয়ে আয়, ঘরে বসে থেকেই তো এমন লাগছে।” কথাটা মিথ্যে না, কিন্তু বেরোতেও ইচ্ছে করে না, শরীরটা ভারী লাগে, মনটাও।

আজকের দিনটা এভাবেই কেটে গেল। কাজ, পড়া, চুলকানি, আর একা বসে থাকা, এই কয়েকটা জিনিস ঘুরেফিরে আসে। খাতায় লিখে একটু হালকা লাগল, তাই এখানেও লিখে রাখলাম।

মন্তব্য 0

  • এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
সব লেখার তালিকা দেখুন →