আজকে সারাদিন ল্যাপটপের সামনে বসেই কেটে গেল। রিমোট ওয়ার্ক করি তো, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একই চেয়ারে বসে থাকা হয়। সেকেন্ড হ্যান্ডে কেনা চেয়ারটা প্রথম কদিন ঠিকই লাগছিল, কিন্তু এখন হাঁটুর ভাঁজে আর কনুইয়ের কাছটায় চুলকানি বেড়ে গেছে। বসে থাকলে ঘাম জমে, ঘাম জমলে চুলকায়, চুলকালে মন আরও অস্থির হয়ে যায়, এই চক্রটা কেমন যেন থামছেই না।
পরীক্ষার আর 2 মাস বাকি। প্রস্তুতি নিতে বসি, কিন্তু বই খুলে বসলেই আগে হাত চলে যায় ত্বকের দিকে। একবার আঁচড়াতে শুরু করলে থামানো যায় না, তারপর নিজের উপরেই রাগ হয়। মনে হয় এই যে সময়টা নষ্ট হচ্ছে, সেটা তো আর ফেরত আসবে না।
রাতে ঘুম আসে না বললেই চলে। শুয়ে থাকি, মাথায় হাজারটা চিনতা ঘোরে, পরীক্ষা, চুলকানি, মাস শেষের বাজেট, সবকিছু একসাথে। তাই ভাবলাম একটা খাতায় লিখে রাখি, যা মনে আসে তাই। ‘হয়তো লিখলে মাথাটা হালকা হবে’ ভেবেছিলাম। কিছুটা হয়ও, লেখার সময় মনে হয় বোঝা কমছে। কিন্তু খাতা বন্ধ করে আলো নিভানোর পরেই আবার সেই একই চিন্তাগুলো ফিরে আসে। খাতাটা যেন শুধু সাময়িক একটা জায়গা, স্থায়ী সমাধান না।
বাড়ির জিনিসপত্র বেশিরভাগই সেকেন্ড হ্যান্ডে জোগাড় করা। টেবিল, চেয়ার, এমনকি বইয়ের র্যাকটাও। টাকা বাঁচানোর জন্যই এভাবে করছি, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় সবকিছু ‘পুরনো’ দিয়ে সাজানো, সেটাও কোথাও গিয়ে মনের উপর একটা ভার হয়ে বসে থাকে। নতুন কিছু কেনার সাহস হয় না, আবার পুরনো জিনিসে ঠিকমতো অভ্যস্তও হতে পারছি না।
সহকর্মীদের সঙ্গে দেখাও হয় না তেমন, সব মিটিং অনলাইনে। কারো সঙ্গে সরাসরি বসে একটু কথা বলার সুযোগটাও নেই। একা ঘরে বসে কাজ, একা বসে পড়া, একা রাতে চুলকানি সামলানো। মাঝে মাঝে মনে হয় এই একা থাকাটাই সবচেয়ে ভারী জিনিস।
সকালে উঠে আবার একই রুটিন শুরু হয়। ত্বকটা একটু শান্ত থাকলে দিনটা একটু সহজ লাগে, চুলকানি বেড়ে গেলে সারাদিনের মেজাজটাই নষ্ট হয়ে যায়। আজ ছিল সেই দ্বিতীয় রকম দিন। খাতায় আজকের কথাটাও লিখে রাখলাম, তবে লিখেও মনে হচ্ছে না ভারটা কমেছে। মনে হয় সবাই কিছু না কিছু চেপে রেখেই চলেন, আমিও বোধহয় তাই করছি।
