← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

খাতায় শুধু আঁকিবুঁকি, মাথায় ভিড়

আজ সকাল থেকে মাথাটা কেমন গমগম করছিল, তাও ল্যাপটপ খুলে বসে পড়েছিলাম কারণ কাজ তো থামে না। সারাদিন এক জায়গায় বসে থাকতে থাকতে হাঁটুর ভাঁজ আর কবজির কাছটা কুটকুট করছিল, মিটিং চলাকালীন হাত নিশপিশ করছিল কিন্তু ক্যামেরা অন থাকায় স্ক্র্যাচ করতেও পারছিলাম না, চুপচাপ হাতের উল্টো পিঠে হাত ঘষে কাজ চালিয়ে গেছি। এভাবে বসে থাকা শরীরের জন্য খারাপ জানি, কিন্তু ওয়ার্ক ফ্রম হোমে এটা ছাড়া উপায়ও নেই।

সেকেন্ড হ্যান্ডে একটা চেয়ার এনেছিলাম কিছুদিন আগে, দাম কম দেখে খুশি হয়ে কিনেছিলাম, কিন্তু বসে থাকলে কাপড়টা গায়ে লেগে চুলকানি আরও বাড়িয়ে দেয় বলে মনে হয়। অবশ্য এটা চেয়ারের দোষ কিনা ঠিক বুঝি না, হয়তো মনের চাপ থেকেও হতে পারে, কারণ আজকাল যেকোনো কিছুতেই শরীর ‘অস্থির’ হয়ে যায়।

পরীক্ষা সামনে, প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে, অথচ রাতে বই খুলে বসলেই মাথায় হাজারটা অন্য চিন্তা এসে ভিড় করে। কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, চেয়ারটা বদলাতে হবে কিনা, চুলকানি বেড়ে গেলে পরীক্ষার দিন কী হবে, এসব ভাবতে ভাবতে সময় চলে যায়, বইয়ের পাতা আর এগোয় না। তাই কিছুদিন হলো একটা খাতা রাখা শুরু করেছি, যা মাথায় আসে টুকে রাখি, ভাবছিলাম লিখে রাখলে হয়তো মন একটু ‘হালকা’ হবে।

কিন্তু খাতা খুলে বসেও দেখি লেখাটা এলোমেলো, একটা লাইন লিখি তো পরের লাইনে অন্য প্রসঙ্গ চলে আসে। কাল রাতেও তাই হলো,
“আজ ভালো ছিলাম”
লিখতে গিয়ে পরের লাইনেই লিখে ফেলেছি হাতের চুলকানি নিয়ে, তারপর আবার পরীক্ষার চাপ নিয়ে, শেষে আর বোঝাই যায় না কোনটা আসল অনুভূতি ছিল।

সহকর্মীরা মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে শরীর ঠিক আছে কিনা, হাতে দাগ দেখে হয়তো, কিন্তু ঠিক করে বলতেও ইচ্ছে করে না, শুধু হেসে এড়িয়ে যাই। বাড়িতেও এই নিয়ে বেশি কথা বলি না, বললে চিন্তা বাড়বে বই কমবে না। তাই এই খাতাটাই এখন একমাত্র জায়গা যেখানে যা মনে আসে তাই লিখে ফেলি, গুছিয়ে না হলেও। এই খাতার প্রথম পাতাটা আপনাদের সাথেও একটু ভাগ করে নিলাম।

আজকের দিনটা মোটামুটি এভাবেই কাটল—
– সকালে মাথা ভার নিয়ে কাজ শুরু
– মিটিংয়ে হাত চুলকানো সামলানো
– বই খুলে বসে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকা
– রাতে খাতায় এলোমেলো কিছু লাইন

ভেতরটা এখনো ভার হয়ে আছে, লিখে ফেললেও হালকা লাগছে বলা যাচ্ছে না। তাও লিখে রাখলাম, পরে পড়লে হয়তো নিজেই বুঝব কোন দিনগুলো এমন ছিল।

মন্তব্য 0

  • এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
সব লেখার তালিকা দেখুন →