সারাদিন ঘরে বসে কাজ করতে করতে শরীরটা কেমন যেন জমে যাচ্ছে। চেয়ার থেকে উঠতেও ইচ্ছে করে না, কাজের চাপ একটানা লেগেই থাকে। আজ সকাল থেকে হাতের ভাঁজে আবার ‘চুলকানি’ শুরু হয়েছে, স্ক্র্যাচ করতে করতে হাতই লাল হয়ে গেছে!
পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে সাথে সাথে। রাতে বই খুলে বসলেই মাথায় হাজারটা চিন্তা এসে ভিড় করে, পড়ায় মন বসে না। ‘উদ্বেগ’ টা দিন দিন বাড়ছে বলেই মনে হয়, তাই একটা খাতা রাখা শুরু করেছি, যা মনে আসে লিখে ফেলি। কিন্তু লিখেও যে খুব শান্তি পাচ্ছি তা না, শুধু ভাবনাগুলো কোথাও তো রাখতে হবে, তাই।
ঘরের জিনিসপত্র বেশিরভাগই সেকেন্ড হ্যান্ড কেনা। চেয়ার, টেবিল, এমনকি বুকশেলফটাও পুরনো বাজার থেকে আনা। টাকা বাঁচানোর জন্যই এই পথ বেছে নিয়েছি, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় এই পুরনো জিনিসগুলোর মতোই নিজেকেও কেমন এলোমেলো লাগে। কাজ, পরীক্ষা, শরীর, সব একসাথে চাপ দিচ্ছে।
মা প্রায়ই ফোনে বলে,
“এত টেনশন করিস না, শরীর খারাপ হয়ে যাবে।”
শুনতে ভালোই লাগে কিন্তু টেনশন কমানো তো আর ইচ্ছেমতো হয় না। রাতে ঘুমও ভালো হচ্ছে না ইদানিং, চুলকানির জন্যই হোক বা মাথায় ঘুরতে থাকা চিন্তার জন্যই হোক, বোঝা মুশকিল।
সহকর্মীদের সাথে অনলাইন মিটিং করতে হয় রোজ, কিন্তু ক্যামেরা অফ রেখেই বসে থাকি বেশিরভাগ সময়। কারো সাথে কথা বলতেও ইচ্ছে করে না আজকাল। ঘরে একা একা বসে কাজ করলে এভাবেই হয় বোধহয়, চারপাশের মানুষগুলো দূরে সরে যায় নিজে থেকেই।
পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে হাত চুলকাতেই থাকে। কনুইয়ের কাছটা শুকিয়ে গিয়ে চামড়া উঠছে, রাতে বিছানায় শুয়েও আঁচড়ানো থামে না। সকালে উঠে দেখি বালিশে সাদা সাদা চামড়ার গুঁড়ো।
কিছু কিছু দিন মনে হয় সব ঠিকঠাক চলছে, আবার কিছু দিন মনে হয় কোনোভাবেই সামলাতে পারছি না। খাতায় লিখে রাখা কথাগুলো পড়ে দেখি নিজেই অবাক হই, কত কিছু জমে আছে মনের ভেতর।
আপনাদের লেখাগুলোও পড়ি মাঝে মাঝে, নিজের মতোই মনে হয় অনেকের অবস্থা। কারো কাছে সমাধান চাইছি না, শুধু মনটা একটু হালকা করার জন্যই লিখলাম।
