← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

খাতায় লিখেও অস্থিরতা কমছে না

খাতা খুলে বসলেই দেখি মনটা কেমন ছটফট করছে। সকাল থেকে ল্যাপটপে বসে আছি, সামনে ক্লায়েন্টের মেইল, পেছনে সেই পুরোনো অস্থিরতা মাথার ভেতর ঘুরছে। বাড়ি থেকে কাজ করি বলে সারাদিন একই চেয়ারে বসে থাকা হয়, উঠে একটু হাঁটাও ঠিকমতো হয় না।

বিকেলের দিকে গিয়ে বুঝি হাত পা কেমন ঝিমঝিম করছে, তখন খেয়াল হয় যে সকাল থেকে একবারও বারান্দাই যাইনি। এমনভাবে বসে থাকতে থাকতে বুকটাও মাঝে মাঝে ধড়ফড় করে ওঠে, কোনো কারণ ছাড়াই!

পরীক্ষার প্রস্তুতিও পড়ে আছে যেমন ছিল তেমনি। হাতে সময় খুব বেশি নেই আর, তাও বই খুলে বসলে মন বসে না, পাতা উল্টাই খালি। রাতে শুয়ে শুয়ে হিসেব করি সিলেবাসের কতটা বাকি, তারপর সেই হিসেব থেকেই শুরু হয় আসল অস্থিরতা। মনে হয় সব গুলিয়ে ফেলব, আর সেই ভাবনা থেকে বেরোতেই পারি না অনেকক্ষণ।

কিছুদিন হল রাতে ডায়েরির মতো করে লিখতে শুরু করেছি, ভেবেছিলাম মনটা একটু হালকা হবে। কিন্তু লিখতে বসলেও হাত কাঁপে, কী লিখব বুঝি না, শুধু “আজকেও ভালো লাগেনি” এইটুকু লিখেই খাতা বন্ধ করে দিই। তারপরও মনে হয় লেখাটা অন্তত কোথাও থাকছে, মাথার ভেতর জমে থাকার চেয়ে সেটাই ভালো।

ঘরের জিনিসপত্র প্রায় সবই সেকেন্ড হ্যান্ড থেকে কেনা, এই চেয়ারটাও তাই। বসলে একটু কিচকিচ শব্দ হয়, প্রথম প্রথম গায়ে লাগত না, এখন সেই শব্দটাও কেমন অসস্তি লাগে। টাকাপয়সার হিসেব করেই সব কিনতে হয়েছে বলে নতুন কিছু বদলানোরও উপায় নেই এখন।

অফিসের বন্ধুরা মাঝে মাঝে মেসেজ করে, রিপ্লাই দিতেও দেরি হয়ে যায় আজকাল। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না ইদানীং, শুধু নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকতেই ভালো লাগে। জানি এটা ভালো লক্ষণ না, তাও কিছু করতে ইচ্ছে করে না।

মা ফোন করলে বলি সব ঠিক আছে, আসলে ঠিক নেই কিছুই। বলতেও ইচ্ছে করে না বেশি কিছু, শুধু শুনিয়ে দিই যা উনি শুনতে চান। ফোন রাখার পর মনে হয় আরেকটু বলা উচিত ছিল, তারপর সেটাও আর হয়ে ওঠে না।

মন্তব্য 0

  • এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
সব লেখার তালিকা দেখুন →