← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

মাথার জঞ্জাল কাগজে নামানোর চেষ্টা

মাথার মধ্যে চিন্তাগুলো এমনভাবে জমতে শুরু করেছিল যে রাতে ঘুমও আসছিল না। কাজ শেষ করে চেয়ার থেকে উঠলেও মনে হতো শরীরটা বসেই আছে, মাথাটা তখনও কম্পিউটারের সামনে। এরকম কয়েক সপ্তাহ চলার পর ঠিক করলাম রোজ রাতে একটা খাতায় দিনের কথা লিখে রাখব, অন্তত মাথার ভেতরের জঞ্জালটা কাগজে নেমে আসুক।

প্রথম কয়েকদিন ভালোই চলছিল। অফিসের কাজ, পরীক্ষার পড়া, টুকিটাকি চিন্তা সব লিখে ফেলতাম। কিন্তু দিনের পর দিন বাড়ি থেকে কাজ করতে করতে, সারাদিন একই চেয়ারে বসে থেকে শরীরটা এমন ক্লান্ত হয়ে যেত যে রাতে খাতা খুলেও কয়েক লাইনের বেশি লেখার মতো শক্তি থাকত না। কিছুদিন তো একেবারেই বাদ পড়ে গেল।

বাড়িতে বসে কাজ করি বলে সারাদিন প্রায় একই জায়গায় বসে থাকতে হয়, ঘাড় আর কাঁধ শক্ত হয়ে আসে। সেকেন্ড হ্যান্ড থেকে কেনা ডেস্কটাও বোধহয় ঠিক উচ্চতার না, বসলে কোথাও না কোথাও একটা চাপ লেগেই থাকে। শরীর যত টানটান থাকে, রাতে মাথার ভেতরটাও ততই এলোমেলো হয়ে ওঠে, শরীর আর মাথা যে এভাবে একসাথে জড়িয়ে আছে সেটা আগে বুঝতেই পারিনি।

তার ওপর পরীক্ষা মাথার ওপর ঝুলছে বলে মনটা কিছুতেই শান্ত হতে চায় না। পড়তে বসলেও মন চলে যায় অন্য জায়গায়, আর তখনই খাতাটা টেনে নিয়ে যা মাথায় আসে তাই লিখে ফেলি। কোনো সাজানো গোছানো লেখা না, শুধু এলোমেলো কথা। কোনোদিন কাজের কথা, কোনোদিন পড়ার চাপের কথা, কোনোদিন কারণ ছাড়াই বুক ধড়ফড় করার কথা।

মজার ব্যাপার হলো, লিখে ফেললেই যে চিন্তাটা মিটে যায় তা না, কিন্তু অন্তত মাথার ভেতর থেকে একবার বেরিয়ে কাগজে বসলে একটু হালকা লাগে। মা একদিন জিজ্ঞেস করছিলেন কী এত লিখি রোজ রাতে, বললাম, “তেমন কিছু না, শুধু দিনটা কেমন গেল লিখে রাখি।”

এখনও নিয়মিত লিখতে পারি না, মাঝে মাঝে সপ্তাহ পার হয়ে যায় খাতা না খুলেই। তবু যেদিন লিখি সেদিন রাতে ঘুমটা একটু তাড়াতাড়ি আসে, এটুকু টের পাই।

মন্তব্য 0

  • এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
সব লেখার তালিকা দেখুন →