লাগাতার ল্যাপটপে বসে থাকতে থাকতে আজ হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে উঠল, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কিছুই মাথায় ঢুকছিল না, শুধু বুকের মধ্যে একটা চাপা ‘অস্থিরতা’ ঘুরছিল। সকাল থেকেই এমন একটা দিন যাচ্ছিল যেখানে কাজের তালিকা শেষ হচ্ছিল না, আর সঙ্গে পরীক্ষার পড়াও বাকি পড়ে ছিল, দুটো একসঙ্গে মাথায় নিয়ে বসে থাকা যে কতটা কঠিন, সেটা আজ আবার বুঝলাম।
বাসা থেকে কাজ করি বলে সারাদিন একই চেয়ারে বসে থাকতে হয়, আর সেই চেয়ারটাও সেকেন্ড হ্যান্ডে কিনে আনা, পুরনো হলেও তখন মনে হয়েছিল কাজ চলে যাবে। কিন্তু আজকাল মনে হয় শরীরটাও যেন সেই চেয়ারের মতোই, বাইরে থেকে ঠিকঠাক দেখাচ্ছে অথচ ভেতরে ভেতরে কোথাও একটা ঝাঁকুনি লেগেই আছে। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আর সহজে চোখ বোজা যায় না, গতকাল রাত 3টা নাগাদ ঘুম ভেঙেছিল, তারপর অনেকক্ষণ শুধু ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, মাথায় তখন একসঙ্গে অনেক কিছু ঘুরছিল —
– পরীক্ষার সিলেবাস কতটা বাকি
– আজকের কাজ জমা দিতে পারব কিনা
– আর পরের সপ্তাহে যে জিনিসপত্র সেকেন্ড হ্যান্ডে কেনার কথা ছিল, সেটার টাকা জোগাড় হবে কিনা
এগুলো আলাদা আলাদা করে দেখলে তেমন বড় কিছু না, তবুও রাতের ওই সময়টায় সব একসঙ্গে এসে চেপে বসে, আর তখন বোঝাও যায় না কোনটা আসল ‘দুশ্চিন্তা’ আর কোনটা শুধু ক্লান্তি থেকে আসছে।
কিছুদিন ধরে একটা খাতায় লিখে রাখার চেষ্টা করছিলাম, যদি মাথাটা একটু হালকা হয়, কিন্তু আজ লিখতে বসেও হাত থেমে গেল, শব্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। দিদি একদিন বলেছিলেন, “খুব বেশি ভাবিস না, একটু একটু করে ঠিক হয়ে যাবে।” কথাটা তখন ভালো লেগেছিল, তবে আজকের মতো দিনে সেই কথাটাও মাথায় টিকছে না, শুধু মনে হচ্ছে এই চাপটা নিয়েই বসে থাকতে হবে আরও কিছুদিন।
পরীক্ষা এখনও 2 মাস দূরে থাকলেও এখন থেকেই শরীর যেভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, তাতে বাকি দিনগুলো কীভাবে যাবে ভেবে আরেকটু ভার লাগছে। কাজের চাপ কমছে না, ঘরের জিনিসপত্রও একটু একটু করে জোগাড় করতে হচ্ছে, আর সব মিলিয়ে নিজের জন্য আলাদা সময় বলে কিছু প্রায় নেই। এখানে অনেকেই তো এরকম সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন, তাই আজকের এই কথাগুলো এখানেই লিখে রাখলাম, মনটা একটু হালকা করার জন্য।
