← তালিকা

মনের সময় ›চোখের জলের গল্প

পরীক্ষার 2 মাস বাকি, মন স্থির নেই

সকাল থেকে ল্যাপটপের সামনে বসে আছি, কাজ শুরুই করতে পারছি না। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি, হাত নড়ে না, মাথার ভেতর শুধু একটা জিনিস ঘুরতে থাকে। পরীক্ষার আর 2 মাস বাকি, আর আমি এখনো সিলেবাসের অর্ধেকও শেষ করতে পারিনি। এই কথাটা মাথায় এলেই বুকের ভেতর কেমন একটা চাপ বসে যায়, পা দুটো অকারণে নড়তে থাকে।

ঘরে বসে কাজ করি বলে সারাদিন একই চেয়ারে বসে থাকতে হয়। চেয়ার-টেবিল দুটোই পুরনো, সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট থেকে কম দামে কেনা। প্রথমদিকে মনে হয়েছিল ঠিক আছে, কিন্তু এখন সারাদিন বসে থাকলে কোমরে আর ঘাড়ে ব্যথা করে। নতুন একটা কেনার কথা ভাবি, কিন্তু পরীক্ষার আগে টাকাটা অন্য জায়গায় খরচ করতে মন সায় দেয় না। তাই দাঁতে দাঁত চেপে এই পুরনো চেয়ারেই বসে থাকি।

মা একদিন দেখে বলেছিলেন, “এত চিন্তা করলে শরীর খারাপ করবে, একটু হাঁটতে যা।” কথাটা ভুল না, কিন্তু শুনে কেমন রাগও হয়েছিল। যেন একটু হাঁটলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আসলে এই অস্থিরতাটা শুধু পরীক্ষার জন্য না, কী থেকে শুরু হয়েছে তা নিজেই ঠিকমতো বুঝতে পারি না।

কয়েক সপ্তাহ ধরে রাতে ডায়েরি লেখার চেষ্টা করছি। কেউ একজন বলেছিল লিখলে নাকি মনটা হালকা হয়, তাই শুরু করেছিলাম। প্রথম কয়েকদিন সত্যিই একটু ভালো লাগত, মনে হত অন্তত কিছু একটা করছি। কিন্তু এখন খাতা খুলে বসলেই একই লাইন ঘুরেফিরে আসে, একই চিন্তা, একই ভয়। লেখার পরেও মনে হয় না কিছু কমল। বরং খাতাটা বন্ধ করে শুয়ে পড়ার পরও মাথার ভেতর সেই লাইনগুলোই বাজতে থাকে।

কাল রাতেও অনেকক্ষণ খাতা নিয়ে বসেছিলাম। পাতাটা একদম সাদা পড়ে ছিল অনেকক্ষণ, কলম হাতে নিয়ে শুধু তাকিয়ে ছিলাম। বুকটা ধড়ফড় করছিল, কিন্তু কারণটা নিজেও বুঝতে পারছিলাম না। পরীক্ষার ভয়, নাকি কাজের চাপ, নাকি অন্য কিছু, কিছুই আলাদা করতে পারছিলাম না। শুধু মনে হচ্ছিল বুকের ভেতরটা কেউ চেপে ধরে আছে।

আজ সকালে উঠে কয়েকটা জিনিস করার চেষ্টা করলাম, যদি মনটা একটু সরে –
জানালা খুলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম
চা বানালাম, কিন্তু আধা কাপ খেয়ে ঠান্ডা হয়ে গেল
পুরনো নোটগুলো আবার গুছিয়ে রাখলাম

কোনোটাতেই মন বসল না। এখন আবার ল্যাপটপের সামনে বসে আছি, কাজ পড়ে আছে, কিন্তু হাত এগোয় না। ডায়েরি লেখাটা যে ভুল ছিল তা বলছি না, হয়তো কারো কারো জন্য এটা কাজ করে। আমার জন্য আপাতত শুধু একটা পাতা ভরানোর কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, মনের ভারটা একটুও হালকা হয় না। রোজ রাতে একই জায়গায় ফিরে আসি, একই লাইন লিখি, আর পরদিন আবার একই চেয়ারে বসে একই চাপ অনুভব করি।

মন্তব্য 2

  • ক্লান্ত পাখি10.04

    আমারও এভাবে পুরনো চেয়ারে বসে কোমর ব্যথা হয়েছিল

  • চুপচাপ মেয়ে10.05

    বুকে চাপ আর পায়ের অস্থিরতার কথা পড়ে মনে হলো, এটা শুধু পড়াশোনার চাপ না, ভেতরে জমে থাকা উদ্বেগটাই শরীরে এমন করে বেরিয়ে আসছে। আমিও সারাদিন এক জায়গায় বসে কাজ করি, মাথায় একটা চিন্তা একটানা ঘুরতে থাকলে শরীরও ঠিক এভাবেই সাড়া দেয় আমার।

সব লেখার তালিকা দেখুন →