কাজের মাঝে বুক ধড়ফড় করলে ঘরের ৫টা জিনিস খুঁজে মনে মনে নাম বলার একটা পদ্ধতি ট্রাই করেছিলাম কিছুদিন।
ডেস্ক বাসাতেই, সারাদিন বসে স্ক্রিনের সামনে কাজ। পরীক্ষা মাথায় ঘুরঘুর করায় বুকটা হঠাৎ হঠাৎ চেপে ধরে, বিশেষ করে বিকেলের দিকে কাজ জমে গেলে বা মেইলের নোটিফিকেশন একটার পর একটা আসতে থাকলে। প্রথম কয়েকদিন শুধু বসে থাকতাম, কিছুই বুঝতাম না, নিজেকে শান্ত হতে বলতাম কিন্তু কথাটা কাজে লাগত না।
তারপর একদিন একটা ভিডিওতে দেখেছিলাম পদ্ধতিটা — প্রথমে ঘরের ৫টা জিনিস খুঁজে মনে মনে নাম বলা, তারপর ৪টা শব্দ শোনা যায় এমন কিছু, তারপর ৩টা জিনিস ছোঁয়া যায় এমন কিছু। প্রথমবার করতে গিয়ে একটু বোকার মতো লাগছিল, মনে হচ্ছিল এটা করে কী হবে। কিন্তু বুক ধড়ফড় থামছিল না, তাই চালিয়ে গেছিলাম কারণ আর কিছু মাথায় আসছিল না তখন।
একটা খাতায় লিখে রেখেছিলাম কখন করলাম, কতক্ষণ লাগল, কেমন লাগল পরে। প্রথম কয়েকদিন একবার করতে প্রায় ৭ মিনিট লাগত, মাথা অন্যদিকে চলে যেত বারবার, আবার শুরু করতে হত। ১২ দিন পর একটু কমে এসেছিল এই সময়টা, ৩ মিনিটের মধ্যেই বুকের চাপটা হালকা হত। দিনে গড়ে ২ বার লাগত এটা করতে, কোনো কোনো দিন একবারও লাগত না, কোনো দিন ৪ বার।
পুরোনো একটা চেয়ার কিনেছিলাম সেকেন্ড হ্যান্ডে, বসার ভঙ্গি ঠিক করার জন্য ভেবেছিলাম তাতে পিঠের ব্যথাটা কমবে। চেয়ারটা ঠিকই হল কিন্তু মনটা তো চেয়ারের সাথে সাথে ঠিক হয় না, এটা বুঝতে একটু সময় লেগেছিল। পরীক্ষার দিন যত কাছে আসছে কাজের চাপও তত বাড়ছে, তাই এই পদ্ধতিটা সমস্যাটা পুরোপুরি থামায়নি। তবে বুক ধড়ফড় শুরু হলে এখন অন্তত একটা জানা পথ আছে হাতের কাছে, আগে যেমন একদম হকচকিয়ে যেতাম তেমন হয় না এখন।
মাঝে মাঝে ৫টা জিনিস খুঁজতে খুঁজতেই ভুলে যাই কোনটা পর্যন্ত বলেছিলাম, তখন আবার থেকে শুরু করি। পারফেক্ট করার চেষ্টা করি না আর, শুধু বুকের চাপটা একটু কমলেই যথেষ্ট মনে হয় এখন।
