সারাদিন ল্যাপটপের সামনে একই ভঙ্গিতে বসে থাকতে থাকতে পিঠটা এমন টানটান হয়ে যায়, যে কাজ শেষ হলেও উঠতে ইচ্ছে করে না। এই অবস্থা কদিন ধরেই চলছিল।
তাই কাল একটা সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটপ্লেস অ্যাপ থেকে পুরনো একটা ফ্লোর কুশন কিনে ফেললাম। বিক্রেতা দিদি নিজের বাড়িতেই ডেকেছিলেন, কুশনটা দেখিয়ে বললেন, “রংটা একটু উঠে গেছে, কিন্তু ভেতরটা একদমই নতুনের মতো।”
নতুন কিনতে ইচ্ছে করেনি, সত্যি বলতে পরীক্ষার ফি আর টুকিটাকি খরচের চিন্তাটা মাথায় থেকেই যায়। তাই পুরনো জিনিসেই কাজ চালানোর অভ্যাসটা এখন বেশ গা-সওয়া হয়ে গেছে।
দুপুরের দিকে কুশনটা পেয়ে চেয়ার ছেড়ে একবার মেঝেতেই বসে পড়লাম। অদ্ভুত লাগছিল প্রথমে, এত মাস একই জায়গায় বসে বসেই কাজ করেছি যে শরীরটা নতুন ভঙ্গি চিনতেই পারছিল না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মেঝেতে বসলে বুকের ভেতরের ওই চেনা ধড়ফড়ানিটা একটু কমে আসে। শরীরের ভঙ্গি বদলালে মাথাটাও একটু থেমে যায় কিনা কে জানে, তবে ডায়েরিতে আজ যখন লিখতে বসলাম, হাতের লেখাটাও একটু শান্ত মনে হলো।
সন্ধ্যার দিকে আবার চেয়ারে ফিরে যেতে হলো, পরীক্ষার পড়া বাকি ছিল তো। তবে ওই কিছুক্ষণ মেঝেতে বসে থাকাটা মনে রাখার মতো লাগল।
